চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ আকারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে মোট বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়, যা আগে ছিল এর চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় এই সংশোধিত এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন، বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ কমে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট হয়েছে মোট ৭২ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে এই খাতে বরাদ্দ হয়েছে যথাক্রমে ১৬৮ হাজার কোটি এবং ৭২ হাজার কোটি টাকা।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতির কারণে মোট চাহিদা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকার, নিয়োগে দেরি ও পুনর্মূল্যায়নের কারণে এই কম চাওয়া হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দের দিকে দেখা গেলে, সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির এক-পঞ্চমাংশ। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি বাসস্থান ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতেও যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে স্বাস্থ্য খাতে কারণ এটি দুর্বল বাস্তবায়ন ক্ষমতার কারণে বরাদ্দের প্রায় ৭৪ শতাংশ সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। মূল এডিপিতে যেখানে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা, সেখানে সংশোধিত এডিপিতে তা কমে হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি। শিক্ষা খাতেও ব্যাপক কাটছাঁট হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে।
পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের আগের বরাদ্দ থাকলেও এখন এই খাতেও প্রায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমেছে। একইভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য প্রথমে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা এখন কমে ৫৪৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ সরাসরি প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে, এবং কৃষি খাতে কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। তবে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যেখানে নতুন বরাদ্দ হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দও উল্লেখযোগ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পানি সম্পদ ও শিক্ষা বিভাগেরাও বেশ কিছু অর্থ পেয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে উন্নয়নের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোও যুক্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে মোট ১৩৩০টির প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে বেশিরভাগই বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যে এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৮৬টি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
Leave a Reply